শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
কুষ্টিয়ায় দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে মহিলা আওয়ামীলীগের ঈদ বস্ত্র বিতরণ শাড়ী, লুঙ্গী ও খাদ্যসামগ্রীর সাথে মুরগীও পেলেন দুস্থ্য ও হতদরিদ্ররা হারভেস্টার মেশিন থাকলে কৃষকরা অনেক লাভবান হবেন: ডিসি কুষ্টিয়া কুষ্টিয়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন বিএডিসি কর্মকর্তা ঈদের দিনেও ঝড়বৃষ্টি বজ্রপাতের আভাস প্রবাসী জয় নেহালের সহযোগিতায় কুষ্টিয়া দিনমনি স্কুলের ছাত্রদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ সবুজকলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উদ্যোগে ইউএনও সোহেল মারুফের বিদায় সম্বর্ধনা দৌলতপুরে নিখোঁজ শিশুর অর্ধগলিত বস্তা বন্দী লাশ প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে উদ্ধার ১০ মায়ের মুখে হাসি ফোটাল কুষ্টিয়ার ‘মবিঅ’ কুষ্টিয়ায় একদল তরুনদের উদ্যোগে হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ
ঘোষণা:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে...

দৌলতপুরে প্রবীণ সংবাদকর্মীর বিদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৩৪ বার পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শনিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১, ৯:০৭ অপরাহ্ন

হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সিনিয়র সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম (৫৫)। শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুণ্ডি বাজার মসজিদের সামনের মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এই জানাজায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নানা শ্রেণি-পেশার কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতি ঘটে।

জানাজার আগে সেখানে সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমের স্মৃতিচারণ করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন, দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য আফাজ উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ রেজাউল হক চৌধুরী, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এজাজ আহমেদ মামুন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা টিপু নেওয়াজ, শহিদুল ইসলাম হালসানা, দৌলতপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম, আল্লারদর্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি খন্দকার জালাল উদ্দিন, কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক সময়ের দিগন্ত সম্পাদক নাহিদ হাসান তিতাস প্রমুখ।

পরে প্রয়াত সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে হৃদয় আলম তার বাবার হয়ে উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন এবং বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া প্রার্থনা করেন। জানাজা শেষে বাড়ির কাছে মহিষকুণ্ডি ডাকপাড়া কবরস্থানে বাবা করিম হালসানার কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। দৌলতপুর সীমান্তের প্রভাবশালী সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমের জানাজায় দৌলতপুর প্রেসক্লাবের সদস্যরাসহ এখানকার সর্বস্তরের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার মানুষ।

এর আগে শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে কলকাতা থেকে তার মরদেহ নিজ বাড়িতে এসে পৌঁছলে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। এদিকে তিন দশক ধরে মফস্বল সাংবাদিকতায় যুক্ত থাকা জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নিজ এলাকা মহিষকুণ্ডি বাজারের অধিকাংশ দোকানপাট শনিবার বন্ধ রাখেন ব্যবসায়ীরা। ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকালের খবর ও কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক বাংলাদেশ বার্তা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম দৌলতপুর প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য ছিলেন।

দৌলতপুরের সিনিয়র সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুতে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সরওয়ার জাহান বাদশাহ্ গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বিবৃতিতে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। একইভাবে বিবৃতি দিয়েছেন দৈনিক বাংলাদেশ বার্তার সম্পাদক, জেলার প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুর রশীদ চৌধুরীসহ আরো অনেকে।

প্রসঙ্গত, দৌলতপুর সীমান্তের বার্তা বাহক হিসেবে এখানকার সাংবাদিক মহলে অধিক পরিচিত সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের ভেলরে যান। সেখানে শারীরিক পরীক্ষার পর কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করছিলেন। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওযায় চিকিৎসকরা হাল ছেড়ে দেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালের দিকে সেখান থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার পথে যশোরের বেনাপোল সীমান্তের কাছাকাছি এসে পৌঁছে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ভারতীয় ভূখণ্ডে মৃত্যুবরণ করায় আইনি জটিলতা এড়াতে পুনরায় তার মরদেহ কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরের দিন শুক্রবার দুপুরে দেশের উদ্দেশে রওনা হয় তার মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স। সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম স্কুল শিক্ষক স্ত্রী, কলেজ পড়ুয়া এক পুত্র ও স্কুল পড়ুয়া এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে দৌলতপুরের সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে।

পেশাগত জীবনে তিনি তথ্য সংগ্রহ ও সহকর্মীদের তথ্য প্রদানের জন্য সাংবাদিক মহলে বিশেষ ভাবে জনপ্রিয় সাংবাদিক ছিলেন। উপজেলা সদর থেকে দুরবর্তী সীমান্ত এলাকা থেকে পেশায় সময় দেয়া এবং টানা দুই যুগের বেশি পরিশ্রম করে যাওয়া এই সাংবাদিকের পেশার জন্য ত্যাগ ছিলো বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় সাংবাদিকেরা।


আপনার মতামত লিখুন :
এ জাতীয় আরো খবর ....
এক ক্লিকে বিভাগের খবর