বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০৯:০১ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে...

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে সন্তান প্রসব

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৬৫ বার পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ৩১ মে, ২০২১, ৫:৩১ পূর্বাহ্ন

বরিশালের বানারীপাড়ায় উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে মুক্তা রানী বড়াল নামের এক প্রসূতি পুত্রসন্তান প্রসব করেছেন। শনিবার রাত সোয়া ৯টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ভবনের সামনে উজিরপুর উপজেলার শিবপুর গ্রামের দিনমজুর সুশান্ত বিশ্বাসের স্ত্রী মুক্তা রানী বড়াল সন্তান প্রসব করেন।

খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার ও নার্সরা সেখানে গিয়ে নবজাতকের শরীর থেকে প্রসূতির নাড়ি কেটে লেবার ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।

ডাক্তার বলছেন, নবজাতক তার মায়ের পেটে থাকা অবস্থায় খাদ্যের অভাবে একটু অপুষ্ট হয়েছে। এক্ষেত্রে তারা নবজাতক ও প্রসূতিকে সুস্থ রাখার জন্য চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।

মুক্তা রানী বড়ালের স্বামী উজিরপুর উপজেলার শিবপুর গ্রামের দিনমজুর সুশান্ত কুমার বিশ্বাস যুগান্তরকে জানান, শনিবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওই ঘটনার দুই মাস পূর্বে তার স্ত্রী নিজ বাড়ি থেকে সন্তান প্রসবের জন্য বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দকাঠী গ্রামের বাবা মৃত চিত্ত রঞ্জন বড়ালের বাড়িতে মায়ের কাছে থকতেন।

বাজারের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক ডাক্তারের কাছে নিয়মিত চেকআপ করাতেন। সম্প্রতি ওই ডাক্তার নিজেই প্রসূতি মুক্তা রানী বড়ালের আলট্রাসোনোগ্রাম রিপোর্ট তৈরি করে ২৯ জুন সন্তান প্রসবের দিন ঘোষণা করেন।

শনিবার সকাল থেকে প্রসূতি মুক্তা রানী বড়ালের প্রসব বেদনা শুরু হয়। তারা প্রসূতিকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে তারা রাত ৯টার দিকে অসুস্থ প্রসূতি মুক্তা রানী বড়ালকে মূল ভবনের সামনে রেখে ১৫-২০ মিনিট ধরে নিচতলা ও দোতলায় ডাক্তার এবং নার্সদের খোঁজাখুঁজি করেন।

এ সময় মুক্তা রানী বড়াল সন্তান প্রসব করেন। তার সঙ্গে আসা আত্মীয়রা সন্তান প্রসবে সহায়তা করেন। পরে প্রসূতির সন্তান প্রসবের খবর পেয়ে জরুরি বিভাগের ডিউটিরত ডাক্তার মো. হাফিজুর রহমান শাকিলসহ কয়েকজন নার্স সেখানে যান।

এ সময় ডাক্তার মো. হাফিজুর রহমান শাকিল ওই প্রসূতি ও নবজাতকের শরীর থেকে নাড়ি কেটে আলাদা করে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি তাদেরকে লেবার ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ডিউটিরত ডাক্তার মো. হাফিজুর রহমান শাকিল যুগান্তরকে জানান, প্রসূতিকে এখানে নিয়ে আসার পূর্বেই নবজাতকের মাথা বেড়িয়ে যাওয়া অবস্থায় তার পরিবার তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে রাখে। ওই অবস্থায় কোনভাবেই প্রসূতিকে গাড়ি থেকে নামানো ঠিক হয়নি। তাকে গাড়ীসহ লেবার ওয়ার্ডে নেয়ার সিঁড়ি থাকার পরেও তারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে প্রসূতিকে গাড়ি থেকে নিচে নামিয়ে রেখেছেন।

তিনি বলেন, পরে খবর পেয়ে আমিসহ কয়েকজন নার্স নিয়ে সেখানে গিয়ে কাপড় টানিয়ে দিয়ে বাচ্চার শরীর থেকে প্রসূতির নারী কেটে আলাদা করে চিকিৎসা সেবা দেয়ার পাশাপাশি মা ও নবজাতককে লেবার ওয়ার্ডে ভর্তি রেখেছি। এছাড়া খাদ্যের অভাবে নবজাতকের একটু অপুষ্টি হয়েছে। সে জন্য আমরা প্রসূতি ও নবজাতককে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি বলেও তিনি যুগান্তরকে জানান।


আপনার মতামত লিখুন :
এ জাতীয় আরো খবর ....
এক ক্লিকে বিভাগের খবর