বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে...

সীমান্তে অক্সিজেন ও আইসিইউ সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫৭ বার পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বুধবার, ২ জুন, ২০২১, ৭:২০ পূর্বাহ্ন

দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী। এসব এলাকায় করোনা রোগী বেড়ে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সংকট দেখা দিয়েছে। সীমান্তবর্তী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেই পর্যাপ্ত অক্সিজেন। জেলা পর্যায়ে রয়েছে আইসিইউ’র ঘাটতি।

এ পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় চিকিৎসার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।

সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় উত্তরের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম দফায় সাতদিনের পর আর সাত দিন এর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। কোভিড-১৯ সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ জনস্বাস্থ্য কমিটি নওগাঁ, নাটোর, রাজশাহী, সাতক্ষীরা, যশোর, কুষ্টিয়া ও খুলনা জেলায় লকডাউন ঘোষণার সুপারিশ করেছে।

যুগান্তরের ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেই কোনো করোনা ইউনিট। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা ইউনিট থাকলেও সেখানে রয়েছে শয্যা সংকট। আইসিইউতে (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) করোনা রোগীর সঙ্গে অন্যান্য রোগীদের একসঙ্গে চিকিৎসা দেওয়া হয়। জেলার সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন সাফায়েত বলেন, জেলায় ৩৫টি আইসোলেশন শয্যা এবং ৮৮টি সাধারণ শয্যা রয়েছে করোনা রোগীদের চিকিৎসায়। জেলায় গত ৬ দিনে ৩৩৯ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪১ জনের কোভিড-১৯ পজিটিভ পাওয়া গেছে।

এদিকে সাতক্ষীরা ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত বন্ধ থাকলেও ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করছে। প্রাথমিক পরীক্ষার পর তারা বন্দর এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ অবস্থায় জেলায় সামগ্রিক করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা।

সীমান্তবর্তী জেলা কুষ্টিয়ায় গত ১০ দিনের গড় শনাক্ত রোগীর হার ৪০ শতাংশ। কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জনস্বাস্থ্য কমিটি যে ৭টি জেলায় লকডাউনের সুপারিশ করেছে তারমধ্যে কুষ্টিয়া অন্যতম। এই জেলার সঙ্গে ভারতের ৪৫ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। জেলার সিভিল সার্জন ডা. এইচএম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি ভারত ফেরতদের মধ্যে তিন জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকার পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, ঈদের আগে কুষ্টিয়ায় সংক্রমণের হার ছিল ৯ শতাংশের মধ্যে। ঈদের পর সেটি বেড়ে ১৩ থেকে ১৬ শতাংশে পৌঁছেছে। সর্বশেষ বেড়ে এ হার ৪০-এ দাঁড়িয়েছে।

উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা নাটোরে কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার ২৯ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় ৮১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৩ জনের শরীরে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। রোগীদের অবস্থা একটু খারাপ হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. পরিতোষ কুমার রায় বলেন, জেলা হাসপাতাল হিসাবে মেডিকেল কলেজের চেয়ে এখানে চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা কম। তাই গুরুতর রোগীদের উন্নত চিকিৎসার্থে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

দেশের অন্যতম প্রধান স্থলবন্দর যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর। এই বন্দর থেকে গড়ে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৮০ জন যাত্রী দেশে প্রবেশ করেন। ইতোমধ্যে ভারত থেকে আসা ৫ জনের শরীরে ‘ইন্ডিয়ান ভেরিয়েন্ট’ শনাক্ত হয়েছে। এরপরও বেনাপোল বন্দর দিয়ে দুই দেশের আমদানি রপ্তানি স্বাভাবিক রয়েছে। জানা গেছে, বন্দর থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে নাভারন উপজেলায় একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে।

এছাড়া ৩৮ কিলোমিটার দূরে জেলা হাসপাতাল। এখানকার কোভিড আক্রান্তদের ওই দুই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। যশোরের সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন বলেন, দেশের অন্যতম রাজস্ব আদায়কারী এ বন্দর এলাকায় কোনো করোনা ইউনিট বা চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই।

বিভাগীয় শহর রাজশাহীর সঙ্গে রয়েছে ভারতে দীর্ঘ সীমান্ত। সম্প্রতি এ এলাকায় করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। হাসপাতালে দেখা দিয়েছে সাধারণ ও আইসিইউ শয্যার সংকট। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩, ১৬, ২২, ২৫, ২৯, ৩০, ৩৯ এবং ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে রোববার দুপুরে এ সংকট দেখা গেছে। এ ওয়ার্ডগুলোতে ২০৯ জন করোনা রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এদের মধ্যে ৩০-৩৫ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন। এদের সবারই আইসিইউ দরকার। কিন্তু হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা মাত্র ১৫টি। রাজশাহীতে ২৮ মে করোনা শনাক্তের হার ছিল ৪২ শতাংশ, ২৯ মে এটি নেমে দাঁড়ায় ২২ শতাংশে। গত ৩০ মে এটি বেড়ে ৩৭ শতাংশে উন্নীত হয়। রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা ২৫টি। এরমধ্যে কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য নির্ধারিত ১৫টি। এছাড়া হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম চালু আছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, সীমান্তে সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী। দেশের অন্যান্য উপজেলার মতো সীমান্তবর্তী উপজেলায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে অক্সিজেনের সুব্যবস্থা নেই।

তবে এসব হাসপাতালে বেসিক চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে যাদের উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন তাদের অবশ্যই নিকটস্থ জেলা হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করতে হবে। এসব জেলায় লকডাউন দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধ আরোপ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ রাখতে হবে। অভ্যন্তরীণ চলাফেরায় স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানতে হবে এবং সংযত আচরণ করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :
এ জাতীয় আরো খবর ....
এক ক্লিকে বিভাগের খবর