বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে...

তৃতীয় শ্রেণি থেকে গেজেটেড কর্মকর্তা!

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪৪ বার পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : রবিবার, ৬ জুন, ২০২১, ১০:৫৫ অপরাহ্ন

গোপালগঞ্জে জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রেড পরিবর্তন করে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির (গেজেটেড) কর্মকর্তা হিসাবে পদোন্নতি লাভ ও অবৈধ বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে।

গোপালগঞ্জের এসএম মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এ সাবেক সহকারী শিক্ষকের (হিন্দু ধর্ম) নাম স্বপ্না রানী হীরা। ২০২০ সালে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস খান তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনেন।

ওই বছর ৫ নভেম্বর গঠিত দুই সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উলে­খ করা হয়, তৎকালীন প্রধান শিক্ষক শুকদেব ভক্ত ও জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হাংশু সাহার যোগসাজশে স্বপ্না রানী এসব অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করেন। অবসরকালীন ছুটিতে যাওয়ার পর তার বৈধ প্রাপ্তি ছিল এককালীন প্রায় ৪০ লাখ টাকা। কিন্তু ইতোমধ্যে তিনি ৬১ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা পেয়েছেন।

তিনি বৈধ পেনশনের অতিরিক্ত ২১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ও প্রতি মাসে গড়ে আরও অতিরিক্ত সাড়ে ৯ হাজার টাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়া প্রায় চ‚ড়ান্ত করে ফেলেছেন। এছাড়া এরমধ্যে দুই কিস্তিতে তিনি পেনশনের বিশাল একটি অঙ্ক উত্তোলন করেন।

স্বপ্না রানী হীরার চাকরির তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৭৬ সালে তিনি এসএসসি পাশ করেন। এরপর ১৯৭৯ সালের ৩ মার্চ ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪০০ টাকা মাসিক বেতনে ধর্মীয় শিক্ষক হিসাবে অস্থায়ীভাবে যোগ দেন।

২০১২ সালের ১৫ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৩৭.০০.০০০০,০৭১.০৪.০৩ (অংশ) ৫৩০ স্মারকে একটি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তাকে গোপালগঞ্জের জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হাংশু সাহা দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তার মর্যাদায় অন্তর্ভুক্ত করেন।

কিন্তু ওই স্মারক নম্বর ও তারিখে মন্ত্রণালয় এ ধরনের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। চাকরিতে যোগদানের পর ১৯৯০ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত কম্পার্টমেন্টাল পরীক্ষায় তিনি এইচএসসি পাশ করেছেন। ২০১৯ সালে তিনি পিআরএল-এ (অবসরকালীন ছুটি) যান।

এ ব্যাপারে সাবেক প্রধান শিক্ষক শুকদেব ভক্ত বলেন, ২০১২ সালের ১৫ মে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্মারক নম্বর ৩৭.০০.০০০০.০৭১.০৪.০০৪.০৩ অনুযায়ী স্বপ্না রানী হীরার বই ক্লোজ করা হয়।

গোপালগঞ্জের সাবেক জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও বর্তমানে যশোর সেনানিবাসে ডেপুটি ফাইন্যান্স কন্ট্রোলার হাংশু সাহা বলেন, যেহেতু তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তাই এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।

এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে আগ্রহী নন বলে জানিয়েছেন সাবেক সহকারী শিক্ষক স্বপ্না রানী হীরা।

সূত্র: যুগান্তর


আপনার মতামত লিখুন :
এ জাতীয় আরো খবর ....
এক ক্লিকে বিভাগের খবর