বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা:
জেলা প্রতিনিধি, উপজেলা প্রতিনিধি, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, বিভাগীয় প্রতিনিধি, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেয়ার জন্য জীবনবৃত্তান্ত, জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি, পাসপোর্ট সাইজের ছবি ইমেইল করুন [email protected]  এই ঠিকানায়

বরগুনার তিন নদীর নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৬৫ বার পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : রবিবার, ২২ আগস্ট, ২০২১, ৯:০৩ অপরাহ্ন

আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিশের একটি গবেষণা দল বরগুনার প্রধান তিনটি নদী পায়রা,বলেশ্বর,বিষখালীসহ সাগর মোহনায় গবেষণা শেষ করে জানিয়েছে,পায়রা,বলেশ্বর ও বিষখালী নদীর নির্দিষ্ট বেশ কিছু এলাকায় ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা জরুরি। তা না করলে এ এলাকায় ইলিশ প্রাপ্তি ক্রমান্বয়ে কমতে থাকবে।
দেশের ২য় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বরগুনার পাথরঘাটা বিএফডিসির তথ্যমতে গত চার বছর ধরে মাত্রাতিরিক্ত হারে ইলিশের পরিমাণ কমে তা নেমে এসেছে এক-তৃতীয়াংশে। চার বছরের ব্যবধানে পাল্টে গেছে এ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের চিত্র। এখন আর ট্রলারভর্তি ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরছেন না জেলেরা। কিছু কিছু জেলে স্বল্প সংখ্যক ইলিশ নিয়ে আসলেও বেশিরভাগ ট্রলারই থাকে ইলিশ শূন্য।
বিএফডিসি’র পরিচালক লেফটেন্যান্ট এম লুৎফর রহমান (বিএন) জানিয়েছেন, প্রতি ১০০ টাকার ইলিশ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে বিক্রি হলে সরকার রাজস্ব পায় ১ টাকা। তবে মাত্রাতিরিক্ত হারে কমে গেছে ইলিশের পরিমাণ। কমে গেছে সরকারের রাজস্ব। তিনি আরও জানিয়েছেন, ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ৩ হাজার ৭৭৫ মেট্রিক টন ইলিশ উঠেছে। ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে ৭০০ মেট্রিক টন কমে গিয়ে ইলিশ ওঠে ৩ হাজার ২১ মেট্রিক টন। ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ১০০ মেট্রিক টন কমে গিয়ে ইলিশ ওঠে ২ হাজার ৯১১ মেট্রিক টন। আর ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে ১ হাজার ৭৫৯ মেট্রিক টন কমে গিয়ে ইলিশ উঠেছে ১ হাজার ১৫২ মেট্রিক টন।
বাংলাদেশ মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানিয়েছেন,বেসরকারি হিসেবে বরগুনা উপকূলের প্রায় দেড় লাখ মানুষ মাছ ধরার পেশায় নিয়োজিত। তাদের মধ্যে শুধু ইলিশ মাছ শিকার করে ৮০ হাজার জেলে। ইলিশশূণ্য হয়ে পড়ছে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর। এখানকার প্রতিটি ট্রলারে ১৮ থেকে ২০ জন জেলে থাকে। একবার সাগরে যেতে অন্তত দেড় থেকে দুই লাখ টাকা ব্যয় হয়। সেই টাকাও উঠছে না। একটু লাভের আশায় বার বার সাগরে যাচ্ছেন জেলেরা। প্রতিবারই লোকসান হয়। ট্রলার মালিকরা এখন জেলেদের বেতনও দিতে পারছেন না।
ওয়ার্ল্ড ফিশের গবেষক মীর মোহাম্মাদ আলী জানান, তিন নদী ও মোহনায় ডিম পাড়তে আসে মা ইলিশ। সেই সময় সেই ইলিশ আটকা পড়ে নদী মোহনার অবৈধ সূক্ষ ফাঁসের জালে। বেশিরভাগ পোনা ইলিশ সাগর থেকে মিঠা পানি ও মাটি খেয়ে বড় হতে চলে আসে তিন নদী ও মোহনায়। তবে সেসব পোনা মাছও আটকা পড়ে এসব জালে। তাই বছরের পর বছর কমে আসছে ইলিশের পরিমাণ। এমন অবস্থা চলতে থাকলে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে ইলিশ পাওয়া যাবে না। তাই দ্রুত এ এলাকায় ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা জরুরি।
বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানিয়েছেন,পায়রা,বলেশ্বর ও বিষখালী নদীকে অভায়াশ্রম ঘোষণা করার জন্য ইতিমধ্যে প্রাথমিকভাবে মৎস্য অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে, শীঘ্রই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


এ জাতীয় আরো খবর ....
এক ক্লিকে বিভাগের খবর