রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:২৪ অপরাহ্ন
ঘোষণা:
জেলা প্রতিনিধি, উপজেলা প্রতিনিধি, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, বিভাগীয় প্রতিনিধি, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেয়ার জন্য জীবনবৃত্তান্ত, জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি, পাসপোর্ট সাইজের ছবি ইমেইল করুন [email protected]  এই ঠিকানায়

কুমারখালীতে হয়ে গেলো গ্ৰাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী সাপ খেলা প্রতিযোগিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১১ বার পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বুধবার, ৩ নভেম্বর, ২০২১, ১০:০৪ অপরাহ্ন

চাঁপাইগাছী বাউল ক্লাবের আয়োজনে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গ্রাম-বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যবাহী ঝাপান খেলা। বুধবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গোগলা চাঁপাইগাছী বাজার প্রাঙ্গণে এই খেলা অনুষ্ঠিত হয়। বিষধর সাপ নিয়ে খেলা দেখতে বাজার প্রাঙ্গণে ভীড় করে হাজারো মানুষ। দর্শকদের হাততালি আর উল্লাসে খেলা দেখাতে ব্যস্ত সাপুড়েরা।

বীণ বাঁশি আর বাদ্যের তালে তালে কাঠের বাক্সু ও মাটির হাঁড়ি থেকে বেড়িয়ে আসে বিষধর গোখরা কুন্ডলী। উপস্থিত উৎসুক হাজারো দর্শকের করতালি একটুও বিমগ্ন করতে পারে না ফণা তুলে থাকা স্বর্পকে। মনিবের ইশারা ইঙ্গিত তাকে ঠিক বুঝিয়ে দিয়েছে, এটা শুধু মানুষকে আনন্দ দেওয়ার খেলা নয় বরং মর্যাদার লড়াইও বটে।

ঐতিহ্যবাহী এই সাপ খেলা দেখতে ভিড় করেন হাজারো দর্শক। বাদ পড়েনি নারীরাও। ঢাক-ঢোলের বাদন আর নাচ-গানে সাপুড়েরা দর্শকদের মন ভরিয়ে তোলেন। ১১ টি সাপুড়ে দলের শতাধিক সাপের মধ্যে নিজেকে সেরা প্রমাণ করতে প্রতিটি সাপ প্রদর্শন করে নিজেদের দক্ষতা আর কেরামতি।

আর এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খেলার দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। কেউ জীবনে প্রথমবার আবার কেউ অনেক দিন পর দেখছেন এ খেলা। এই ‘ঝাপান খেলা’ দেখে খুবই আনন্দিত হন দর্শক।

এলাকার রহিম হোসেন বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে বয়োবৃদ্ধ, নারী-পুরুষ, শিশুরা উপস্থিত থেকে নিবিড় দৃষ্টিতে উপভোগ করেন। খেলাকে ঘিরে এখানে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য যে এত মনোমুগ্ধকর ঝাপান খেলা না দেখলে বোঝা যাবে না।

এ ব্যাপারে আয়োজক লিটন প্রামাণিক বলেন ‘গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকে বর্তমান প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে এই খেলার আয়োজন। কালের বিবর্তনে লোকাচারের অনেক কিছুই এখন হারিয়ে গেছে। কিন্তু সেই মধ্যযুগ হয়ে একবিংশ শতাব্দীর মানুষের কাছে এখনো সমান জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে এটি।

চাঁপাইগাছী বাজার প্রাঙ্গণে এ খেলায় ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া,রাজবাড়ী,পাবনা, মাগুরাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের এগারো সাপুড়ে দল শতাধিক সাপ নিয়ে অংশ নেয়।
এ ব্যাপারে আয়োজকেরা বলেন, চিরায়ত বাংলার ঐহিত্যবাহী এ খেলা দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে। হারিয়ে যাওয়া এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে আর এলাকার মানুষকে একটু আনন্দ দিতেই এ আয়োজন।

লিটন প্রামাণিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক আব্দুল্লাহ আল বাকী বাদশা।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আযম হান্নান।
খেলাটি পরিচালনা করেন আতিয়ার রহমান।


এ জাতীয় আরো খবর ....
এক ক্লিকে বিভাগের খবর