সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ০৬:৩৬ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়া জেলায় ২৫১ টি মন্ডোবে পূজা উদযাপন করা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩৬ বার পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৬:৫১ অপরাহ্ন

দুর্গাপূজাকে ঘিরে কুষ্টিয়া চারটি উপজেলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির কারিগররা। কে কত ভালো প্রতিমা তৈরি করে ভক্তদের হৃদয় ছুঁতে পারেন তারই প্রতিযোগিতা চলছে মণ্ডপে মণ্ডপে। সামর্থ্য অনুযায়ী স্থানীয় ও অন্য জেলা থেকে কারিগর এনে প্রতিমা তৈরি করছে পূজা মণ্ডপ কমিটি।

জেলায় এবার ২৫১ টি পূজা উদযাপন হবে।
এর মধ্যে কুমারখালী উপজেলায় ৫৬ টি, খোকসায় ৬৫, দৌলতপুরে ১৪, ভেড়ামারায় ৯ টি, কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ৮২ টি, মিরপুরে ২৪ টি মন্দিরে দূর্গা পূজা উদযাপন হবে।

প্রতিমা তৈরির কারিগর সুভল কুমার পাল বলেন, ‘এ বছর আটটি পূজা মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ নিয়েছি। বংশ পরম্পরায় এই কাজ করে আসছি। এ বছর প্রতিটি প্রতিমা তৈরির খরচ ‌ ৮০ হাজার টাকা নিলেও আমাদের পোষাবে না। কারণ প্রয়োজনীয় উপকরণের মধ্যে রঙ, কাপড়, পুঁথির মালা, পরচুলা, চুমকি, শোলা ও কারিগরের মজুরিসহ সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। শুধু পেশাটাকে টিকিয়ে রাখার জন্য এ কাজ করতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিগত দুই বছর করোনা মহামারির কারণে ঢিলাঢালাভাবে দায় সেরেছিল পূজা মণ্ডপ কমিটি। এ বছর আশায় বুক বেধেছিলাম, কিন্তু বৈশ্বিক যুদ্ধের কারণে সব কিছুর দাম বেড়েছে। তাই খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবারও লোকসান গুনতে হবে। স্থানীয় পূজা কমিটিও এ বাজেট সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।’

কুমারখালী নবগ্রহ মন্দির প্রতিমা তৈরির কারিগর চন্দন পাল জানান, এখানে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। দেবী দুর্গার সঙ্গে রয়েছেন কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী ও স্বরসতী। এছাড়া এখন পর্যন্ত বাঘ ও অশুরের মুখমণ্ডলসহ দেহের কাঠামো গঠন করা হয়েছে। প্রতিমাগুলো রোদে শুকানোর কাজ শেষ হয়েছে। আর কিছুদিন পরেই রঙ-তুলির আঁচড়ে প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে প্রতিটি প্রতিমা।

তেবাড়িয়া সর্বজনীন মন্দিরের সভাপতি সুজিত বলেন, ‘বর্তমানে বাজারমূল্য ঊর্ধ্বগতির কারণে দুর্গা পূজা অর্চনা, প্রসাদ কেনার খরচ—সবমিলিয়ে কমিটির সদস্যরা হিমশিম খাচ্ছে। এদিকে কারিগরের মজুরিসহ অন্যান্য উপকরণ কেনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

মন্দিরের পুরোহিত অশিম মুখার্জি জানান, আগামী ১ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে দুর্গা পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এ বছর মা দুর্গা গজে (হাতি) আগমন করবেন। এর অর্থ শস্যপূর্ণ বসুন্ধরা। আর বিজয়া দশমীতে গমন করবেন নৌকায়। এর অর্থ শস্যবৃদ্ধি আশানুরূপ হলেও বন্যা ও জলোচ্ছাসে কিছু শস্য নষ্ট হবে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জয়দেব কুমার বলেন, ‘জেলায় ২৫১ টি পূজা মণ্ডপ রয়েছে। উপজেলা ভিত্তিক প্রতিটি কমিটিকে ডিজে পার্টির নামে অশ্লীলতা বন্ধের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা ঘটাতে না পারে সে জন্য পুলিশ প্রশাসন সর্বদা দায়িত্ব পালন করবে। আমরা সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি।’

কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার মোঃ খাইরুল আলম জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব কে কেন্দ্র করে এতি মধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে আমরা সব সময় খোঁজ খবর রাখছি।


এ জাতীয় আরো খবর ....
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Translate »
error: Content is protected !!
Translate »
error: Content is protected !!